খাস জমি হলো এমন ভূমি, যার কোনো ব্যক্তিগত মালিকানা নেই এবং যা সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে থাকে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী খাস জমি রেকর্ড করতে হলে নির্দিষ্ট কিছু ধাপ ও কাগজপত্র অনুসরণ করতে হয়। এই পোস্টে ধাপে ধাপে জানুন কীভাবে খাস জমি রেকর্ড করবেন এবং এই প্রক্রিয়ায় কী কী শর্ত প্রযোজ্য।

খাস জমি রেকর্ড করার ধাপসমূহ :
আবেদন প্রস্তুত করা
খাস জমি রেকর্ডের জন্য প্রথমে আবেদন করতে হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে (AC Land অফিসে)। আবেদনপত্রে জমির অবস্থান, দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর, জমির পরিমাণ ইত্যাদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করা:
আবেদনের সঙ্গে নিম্নলিখিত কাগজপত্র যুক্ত করতে হবে:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
- জমির খতিয়ান ও দাগ নম্বর
- পূর্ববর্তী দলিল (যদি থাকে)
- স্থানীয় চেয়ারম্যান বা মেম্বারের সুপারিশপত্র
- ভূমি উন্নয়ন কর রসিদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- ছবি (পাসপোর্ট সাইজ ২ কপি)
ভূমি অফিসে যাচাই প্রক্রিয়া:
আবেদন জমা দেওয়ার পর স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জমির প্রকৃতি ও দখল অবস্থা যাচাই করবেন। খাস জমি সরকারি মালিকানাধীন কিনা তা রেকর্ড শাখা থেকে পরীক্ষা করা হবে।
উপজেলা ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদন:
যদি প্রাথমিক যাচাইয়ে আবেদন বৈধ হয়, তাহলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) ও জেলা প্রশাসকের (DC) অনুমোদনের মাধ্যমে রেকর্ড প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আবেদন জমা দেয়ার পদ্ধতি:
১. আবেদন জমা দেওয়া: প্রথমে আপনাকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে। এরপর, যদি আবেদন অনুমোদিত হয়, তাহলে আপনি ৯৯ বছরের জন্য খাস জমি লিজ নিতে পারবেন। লিজ পাওয়ার পরে, ভূমি অফিসের ওয়েবসাইট https://mutation.land.gov.bd অথবা এসি ল্যান্ড অফিসে গিয়ে নামজারি আবেদন করতে হবে।
২. খরচ: এই প্রক্রিয়ার জন্য মোট ১১৭০ টাকা খরচ হবে। এর মধ্যে ২০ টাকা কোর্ট ফি, ৫০ টাকা প্রসেসিং ফি, এবং ১১০০ টাকা ডিসিয়ার ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৩. নামজারি: একবার খাস জমি রেকর্ড করার নিয়ম অনুসারে নামজারি সম্পন্ন হলে, জমিটি আপনার নামে নথিভুক্ত হবে। ফলে, আপনি এটি ৯৯ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন।
নামজারি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করু নামজারি কি প্রক্রিয়া ও খরচ
রেকর্ড (খতিয়ান) হালনাগাদ:
অনুমোদন শেষে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে নামজারি বা রেকর্ড হালনাগাদ করা হয়। এরপর আবেদনকারী খাস জমির রেকর্ড কপি (খতিয়ান) সংগ্রহ করতে পারেন।
খাস জমি বন্দোবস্তের শর্ত:
- ভূমিহীনতা: জমি বন্দোবস্ত পেতে হলে, আপনাকে ভূমিহীন হতে হবে বা সর্বাধিক ১০ শতকের জমি থাকতে হবে।
- জমির প্রকার: কৃষি অথবা অকৃষি জমির ক্ষেত্রে এই বন্দোবস্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
- রেকর্ড শর্ত: জেলা প্রশাসকের অধীনে থাকা জমিগুলি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের মাধ্যমে আপনার নামে রেকর্ড করা যাবে।
লিজ নেওয়ার আবেদন প্রক্রিয়া:
খাস জমি লিজ নেয়ার জন্য আপনাকে ৯৯ বছরের জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদন ফরম পূরণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিন। লিজ পাওয়ার পর, জমিটি আপনার নামে নথিভুক্ত করার জন্য নামজারি আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনে অথবা সরাসরি করা সম্ভব।
খাস জমির মালিকানা:
প্রত্যেক খাস জমি সরকারের মালিকানায় থাকে। জমির রেকর্ড ও ব্যবস্থাপনা জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। একবার খাস জমি রেকর্ড করার নিয়ম অনুযায়ী নথিভুক্ত হলে, জমিটি ৯৯ বছরের জন্য আপনার ব্যবহারের অধীনে থাকবে। হলে, জমিটি ৯৯ বছরের জন্য আপনার ব্যবহারের অধীনে থাকবে।
এরপর, চাইলে উক্ত জমিটি আবারও লিজ রিনিউ করে নিতে পারবেন। খাস জমি লিজ নেওয়ার আবেদন ফরম ডাউনলোড করতে পারবেন এখানে ক্লিক করে।






জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলা বিস্তারিত দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।